গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি: সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ঐক্যবদ্ধভাবে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী।
মঙ্গলবার (১৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে গোলাপগঞ্জের ঢাকাদক্ষিণ এলাকার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন গোলাপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রফিকুল ইসলাম, গোলাপগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ছবেদ আলী ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
বক্তব্যের শুরুতে এমপি শ্রী চৈতন্যদেবের স্মৃতিবিজড়িত ঢাকাদক্ষিণ পূজামণ্ডপ ও তীর্থস্থানকে শুধু সিলেট বা বাংলাদেশ নয়, গোটা বিশ্বের কাছে পরিচিত ও মর্যাদাপূর্ণ স্থান হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, "আমরা অসাম্প্রদায়িক চেতনার ওপর ভিত্তি করে এই দেশ স্বাধীন করেছি। ধর্ম যার যার, কিন্তু রাষ্ট্র ও নাগরিক হিসেবে আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের জন্য কাজ করতে হবে।" মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর এসব দেশ উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে, অথচ দ্বিধা-বিভক্তির কারণে বাংলাদেশ পিছিয়ে রয়েছে। এ অবস্থা আর চলতে দেওয়া যাবে না।
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য ভূমি, কর্মসংস্থান, আবাসন ও উন্নত স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিশ্চিতের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, পূজা উপলক্ষে কেন্দ্রীয় পূজা কমিটির নেতৃবৃন্দ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলে তিনি নির্ধারিত অনুদানের চেয়ে অনেক বেশি অর্থ স্বেচ্ছায় বরাদ্দ দেন। এমপির ভাষ্যে, রাষ্ট্রনায়কের এমন কল্যাণমুখী পদক্ষেপে তাঁর অসাম্প্রদায়িক ও উদার মানসিকতারই প্রতিফলন ঘটে।
এলাকার উন্নয়ন প্রসঙ্গে এমপি বলেন, "নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজারের উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি।" সার্বিক উন্নয়নে তাঁর ব্যক্তিগত ও সরকারি কিছু পরিকল্পনা রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর কাছে ডিও লেটার দেওয়া হয়েছে এবং প্রক্রিয়া চলমান।
তিনি জানান, ঢাকাদক্ষিণের ঐতিহাসিক দিঘির চারপাশে একটি আধুনিক ওয়াকওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি একটি আধুনিক শ্মশানঘাট নির্মাণেরও সুনির্দিষ্ট আশ্বাস দেন তিনি।
বক্তব্যের শেষে হিন্দু-মুসলিমসহ সব ধর্ম-বর্ণের মানুষকে মিলেমিশে সমান নাগরিক অধিকার ভোগের পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানান এমপি। একই সঙ্গে ভবিষ্যতেও এলাকার উন্নয়নে সবার সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, সিলেট জেলা বিএনপির উপদেষ্টা মহি সুন্নাহ চৌধুরী নার্জিস ও ছালিক আহমদ চৌধুরী, জেলা বিএনপির সহ-মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক মিনহাজ উদ্দিন চৌধুরী, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক ও আমুড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান রুহেল আহমদ, ঢাকাদক্ষিণ ইউপি চেয়ারম্যান এসএম আব্দুর রহিম, উপজেলা ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এম.এ ছায়াদ, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এসএ রিপন, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক আল-নবি চৌধুরী শিপন, উপজেলা জাসাসের সভাপতি আমির হোসেন, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহজাহান আহমদ, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মওদুদ আহমদ চৌধুরী, জেলা যুবদলের সহ-মৎস্য বিষয়ক সম্পাদক সুলতান মাহমুদ, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক তানজিম আহাদ, বিএনপি নেতা আব্দুর রউফ মেম্বার, কামাল আহমদ, আব্দুল হামিদ ও এনাম আহমদ, ঢাকাদক্ষিণ ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি ও ইউপি সদস্য আব্দুর রহিম, ইউপি সদস্য মাহমুদুল হাসান বাচ্চু, ঢাকাদক্ষিণ সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সুলতান আহমদ, ছাত্রদল নেতা টিপু সুলতান, জাবেদ ও কামরুল, বাদেপাশা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি কামরান হোসেন ও দপ্তর সম্পাদক আব্বাস ইবনে খলিল এবং স্থানীয় পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দসহ আরও অনেকে।
